ধনী হাজিদের জন্য আয়েশি হোটেলে যা থাকে !!

0
66

আরাম আয়েশে হজ করতে বিশেষ সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে মক্কার বিলাসবহুল হোটেলগুলো। মূলত অভিজাতদের আকর্ষণ করতে হজকে ঘিরে এমন উদ্যোগ। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর এমন আয়োজনকে বলা হচ্ছে ‘রিলিজিয়াস টুরিজম’। এনডিটিভি জানায়, ধনী হাজিদের আকর্ষণ করতে অত্যাধুনিকভাবে সাজানো হয়েছে মক্কার কিছু হোটেল।

দামি মার্বেল পাথর, কাঠের আকর্ষণীয় কারুকাজ এবং বিস্তীর্ণ ঝাড়বাতি সজ্জিত হোটেলগুলো সহজেই নজর কেড়ে নেয় ধনী মানুষদের। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে উঠে আসে এসব হোটেলের ভেতরের বর্ণনা।

বিলাসবহুল এক হোটেলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘কাবার দিকে নামাজ পড়ার জন্য আমাদের তিনটি রুম আছে।’ অতিথিদের সার্বক্ষণিক হজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে রাখতে নানা ধরনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেন তারা, এমনটা জানান তিনি।

হোটেলটির ২৯ তলার একটি নামাজের ঘরে সমবেত হয়েছিলেন অতিথিরা। সেখান থেকেই দেখা যাচ্ছিল কাবা ঘর। যেটি মুসলিমদের কেবলা, এর দিকে মুখ করে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। আর হজে কাবা ঘরকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট নিয়মে ঘুরতে হয়, যাকে তাওয়াফ বলা হয়।

কাবাঘর ও হেরেম শরিফের গ্র্যান্ড মসজিদকে ঘিরে এসব অভিজাত হোটেল গড়ে উঠেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। হোটেলের কক্ষ থেকে প্যানারমিক দৃশ্য অবলোকন করতে পারে এখানকার হাজিরা। হজের সময় এই সব হোটেলে প্রতি রাতের জন্য খরচ করতে হয় এক হাজার ডলার পর্যন্ত।

এ বছরের শুরুতেই হোটেলগুলো অগ্রিম বুক হয়ে যায়। এমনকি আগামী বছরে হজের জন্যও ভাড়া হয়ে গেছে এসব হোটেলের অধিকাংশ রুম। ২০১২ সালে সরকারি তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠে আকাশচুম্বী মাল্টি কমপ্লেক্স আবরাজ আল-বাইত। কাবা টাওয়ার নামে পরিচিত এই মাল্টি কমপ্লেক্স পৃথিবীর সর্বাধিক উঁচু ভবনের একটি।

বিগ বেন নামে পরিচিত লন্ডনের বিখ্যাত কুইন এলিজাবেথ টাওয়ারের ঘণ্টাঘড়ির চেয়েও ৩৫ গুণ বড় কাবা টাওয়ারের ঘড়িটি। নামকরা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বিন লাদেন গ্রুপ এই ভবনটির নির্মাতা। আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পরিবারেরই এই প্রতিষ্ঠান। ভবনটির নির্মাণ করার সময় ভেঙে ফেলা হয় উসমানিয়া খেলাফতের ঐতিহাসিক স্থাপনা। আধুনিক স্থাপনা দিয়ে মক্কাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে ভেঙে ফেলা হয় পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ৯৫ ভাগই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here