যে কারনে নবী (সা.) মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটার আদেশ দিতেন !!

0
76

আপনি কি মনে করতে পারছেন যে শেষ কবে সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হেঁটেছেন? নিশ্চয়ই ভালো করে মনে করতে পারছেন না! বিশেষ করে যাঁরা শহরে থাকেন, তাঁরা সাধারণত মাটির স্পর্শ থেকে বঞ্চিত থাকেন। অনেকে সকালবেলা ব্যায়াম করলেও খালি পায়ে ব্যায়াম করেন না। অথচ খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা অনেক। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটার নির্দেশ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর এক সাহাবি মিসরে অবস্থানরত ফাদালাহ ইবনু উবাইদ (রা.)-এর কাছে পৌঁছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি শুধু আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসিনি, বরং আমি ও আপনি যে হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে শুনেছি, আশা করি এ সম্পর্কে আপনার কিছু জানা আছে। তিনি বললেন, তা কোন বিষয়ে? তিনি বললেন, এরূপ: তিনি বলেন, আপনি একটি স্থানের নেতা, অথচ আপনার মাথায় চুল উষ্কখুষ্ক দেখছি? সাহাবি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাত্রাতিরিক্ত জাঁকজমক দেখাতে নিষেধ করেছেন। তিনি (ফাদালাহ) বলেন, আপনার পায়ে জুতা দেখছি না কেন? তিনি বলেন, নবী (সা.) আমাদের মাঝে মাঝে খালি পায়ে চলার আদেশ দিতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪১৬০)

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা পালনের উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা সুন্নত। এতে যেমন মানুষের আত্ম-অহমিকা কিছুটা সংবরণ হবে, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। এভাবে মহান আল্লাহ রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন সুন্নতে কল্যাণ রেখে দিয়েছেন।

কখনো কখনো জুতার কারণেও আমরা পা ও মাংসপেশির ব্যথায় ভুগি। দিনের কিছুটা সময় উঁচু-নিচু স্থানে বা ঘাস-মাটিতে খালি পায়ে হাঁটলে সেটিও দূর হয়। আবার এর ফলে মুখের পেশিতে পর্যন্ত রক্ত চলাচলের গতি বাড়ে (ডেভেলপমেন্টাল অ্যান্ড সেল বায়োলজি বিভাগ, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়)।

মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। জার্নাল অব অলটারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণার নিবন্ধ অনুযায়ী, খালি পায়ে হাঁটলে শরীরের ভেতর লোহিত রক্তকণিকাগুলোর চার্জে পরিবর্তন আসে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

বিশেষ করে আমাদের দেশের মানুষের জন্য খালি পায়ে হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। কারণ আমরা খালি পায়ে মাটির ওপর হাঁটতে পারি। আমার পা যখন মাটি স্পর্শ করে, তখন মাটি থেকে দেহ নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে। এতে দেহের ভেতর বায়ো-ইলেকট্রিক্যাল ভারসাম্য বজায় থাকে। এ ছাড়া খালি পায়ে হাঁটতে গেলে আমরা অবচেতনে একটু বাড়তি সতর্ক থাকি, যা আমাদের সতর্ক থাকা ও শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ায় (জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ)। তা ছাড়া সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার ফলে কয়েক ধরনের ব্যথা দূর হয়। খালি পায়ে উঁচু-নিচু জায়গায় হাঁটলে মাংসপেশিরও ব্যায়াম হয়। পেশির ব্যথাও দূর হয়। এতে রাতে ঘুমের সমস্যাও কিছুটা কেটে যায়।

পোল্যান্ড মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, মাটিতে খালি পায়ে ব্যায়াম করার সময় শরীরে হেপাটিক প্রোটিন ক্যাটাবলিজম নামের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শরীরে নাইট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এতে হজমপ্রক্রিয়াও উপকৃত হয়।

এখানেই শেষ নয়, খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের আকুপাংচার পয়েন্টগুলো জেগে ওঠে। এতে স্নায়ু ও শিরা উদ্দীপ্ত হয়। এতে শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের ব্যায়ামটা হয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের পায়ের নিচের অংশের স্নায়বিক উদ্দীপনা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই খালি পায়ে হাঁটার ফলে উচ্চ রক্তচাপও কমে।

আমাদের প্রত্যেকের উচিত ভোরবেলা ফজরের নামাজের পর কিছুক্ষণ সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার চেষ্টা করা। এতে আমরা প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি সুন্নত পালনের সওয়াব পাব, পাশাপাশি এটি আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্যও সহযোগী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here