নিখোঁজের দুই মাস পর বন্ধুর ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার হলো রবিউলের লাশ! বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

নিখোঁজের দুই মাস পর বন্ধুর ঘরের মেঝের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে কলেজছাত্র রবিউল ইসলামের (২৩) এর লাশ। সুজানগর উপজেলায় বন্ধু মামুন শেখের (২৫) দেওয়া তথ্য মতে গতকাল শুক্রবার সকালে তার শোবার ঘরের মেঝে খুঁড়ে রবিউলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে এই ঘটনায় সন্দেহভাজন মামুনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিলো পুলিশ।

পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে মামুন পুলিশকে জানিয়েছে, প্রেমঘটিত বিষয়ে রবিউলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ছিল। এর জেরে রবিউলকে প্রথমে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ চাপা দিয়ে রাখে। রবিউল একই উপজেলার উলাট গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রবিউল। পরদিন এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। এর মধ্যে দুটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে এবং মেসেজ পাঠিয়ে তাদের কাছে রবিউলের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হক জানান, টাকা না পেলে রবিউলকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রবিউলের বড় ভাই নজরুল ইসলাম হূদয়কে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হাতে তেমন কোনো ক্লু ছিল না। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মামুনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা রবিউলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান,নিহত রবিউল স্থানীয় সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি মানিক হাট ইউনিয়নের উলাট গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। গত দুই মাস আগে গত ২০শে সেপ্টেম্বর সে নিখোঁজ হয়। এ ব্যপারে রবিউলের বাবা থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে। পরে রবিউলের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হৃদয় নামের এক যুবককে আসামি করে ৫ই অক্টোবর সুজানগর থানায় একটি মামলা করে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
মামলার পর বিভিন্ন সময় এজাহার নামীয় আসামি হৃদয় সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ও মোবাইল ট্র্যাকিং করে তার বন্ধু পাশের বাড়ির মামুন হোসেনকে সন্দেহ করে। মূল আসামি মামুন শেখকে গতকাল বৃহস্পতিবার পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে জানায় রবিউলকে মেরে তার ঘরের মেঝের মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। পরে তার স্বীকারোক্তিতে গতকাল সকালে আসামি মামুনের শোবার ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আটক মামুন একই এলাকার রাজ্জাক শেখের ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মূলত প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে কলেজছাত্র রবিউল ও তার প্রতিবেশী মামুনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এরই জেরে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে ও পরে শ্বাসরোধে রবিউলকে হত্যা করে মামুন। এরপর ঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দিয়ে রাখে। এবং সে ঘরেই এতদিন বসবাস করে আসছিলো মামুন।

নিহত রবিউলের ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল। আমরা হত্যকারী মামুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Leave a Reply