কাঠমিস্ত্রীর ছেলে থেকে যেভাবে জিম্বাবুয়ের শাসক হলেন মুগাবে, জানলে অবাক হবেন !!

তীব্র জনরোষে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন জিম্বাবুয়ের শাসক মুগাবে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় এসে ৩৭ বছর টানা জিম্বাবুয়েকে শাসন করার পর অবশেষে সমাপ্তি ঘটল তার। তবে মুগাবের রাজনীতিতে উঠে আসাও কম চাঞ্চল্যকর ছিলনা। একজন কাঠমিস্ত্রীর ছেলে থেকে পরবর্তিতে শাসক হন তিনি।

ছয় ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় রবার্ট মুগাবে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিপ্লবী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রী। ১৯৩৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর কাজের সন্ধানে বুলাওয়ে শহরে যান মুগাবে। পরে আইরিশ একজন পাদ্রীর সাথে থেকে নিজেকে গড়েন তিনি। পরে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি যেমন বলেছিলেন, ‘তুমি যদি নির্বাচনে হারো এবং জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হও, তাহলে রাজনীতি ছাড়ার সময় এসেছে। ’ সেই মুগাবেই নির্বাচনে হারার পরও ক্ষমতায় থেকে বলেছিলেন ‘কেবলমাত্র ঈশ্বর’ই আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে।

১৯২৪ সালে জন্ম মুগাবের। এরপর প্রশিক্ষন নেন শিক্ষকতায়। সেসময় ১৯৬১ সালে ঘানার স্যালি হেফ্রেনকে বিয়ে করেন। ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতার ধারাবাহিকতায় জানু-পিএফ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আসে ক্রান্তিকাল। ১৯৬৪ সালে প্রায় ১০ বছর রোডেশিয়ার কারাগারে ছিলেন তিনি।

এরপরই আসে সুসময়। ১৯৮০ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর জিম্বাবুয়ের প্রধানমন্ত্রী হন, জয়লাভ করেন স্বাধীনতা উত্তর নির্বাচনে। তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কারের জন্য মনোনিত হন প্রধানমন্ত্রি হওয়ার এক বছর পরেই। এরপর ১৯৮৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০০০ সালে তিনি গণভোটে পরাজয় বরন করেন এবং শ্বেতাঙ্গদের কৃষি খামার অধিগ্রহণ করেন। এরপর ২০০২ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে জয়পান। ২০০৮ সালে প্রথম দফা নির্বাচনে হেরে যান। দ্বিতীয় দফায় সমর্থকদের ওপর ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে তার প্রতিদ্বন্ধী সরে দাঁড়ান। এরপর আসে উইকিলিকসের তথ্য। সেখানে জানা যায় মুগাবে প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন।

তবে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন ২০১৭ সালে দীর্ঘদিনের সহযোগী ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমারসন মানাঙ্গকওয়াকে বরখাস্ত করে। কারন এরপরই নিজ দল জানু-পিএফ ও সামরিক বাহিনীর ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হলেন।

রবার্ট মুগাবের পর জিম্বাবুয়ের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা এখনো বলা হয়নি, তবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এমারসন মাসাঙ্গাগওয়ার নামই বলা হচ্ছে সবার আগে।

তিনি এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে অজ্ঞাত স্থান থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে জানিয়েছিলেন।

Leave a Reply