ভ্যাটের চাপে বিপদে দুবাই প্রবাসীরা !

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন বছরে নানাখাতে নতুন করে মূল্য সংযোজন করারোপ (ভ্যাট) করতে যাচ্ছে। প্রবাসী ও নিজ নাগরিকদের কাছে ‘করমুক্ত স্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত আমিরাত সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন খাতে ভ্যাট যুক্ত হওয়ায় সেখানকার সীমিত আয়ের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সঙ্কটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিকই আরব আমিরাতে কর্মসূত্রে বসবাস করেন। তাদের অনেকের জীবনযাত্রার মানই বাড়তি ভ্যাটের কারণে কিছুটা ‘বিঘ্নিত’ হবে।

আমিরাতের অর্থমন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, নতুন বছরের শুরু থেকে অফিস অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া, পানি ও বিদ্যুৎ বিল, সব ধরনের ফোন বিল, জ্বালানি তেল, দেশে পাঠানো রেমিটেন্স চার্জ, গাড়ি পার্কিং, অনলাইন শপিং, জুয়েলারি পণ্য, সিনেমা থেকে শুরু করে সমস্ত বিনোদনের প্রায় সবখাতে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট গুনতে হবে।

এছাড়াও ভ্যাট বসছে- চা-কফি, ভ্রমণ প্যাকেজ, পাঠ্যপুস্তক, কাপড় চোপড়, জুতো, ব্যাগ, চশমা, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, গাড়ি, খাবার-দাবার বেচা-কেনা, জিম ব্যবহারেও।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতালয়ের প্রথম সচিব (শ্রম) মোকসেদ আলী জানান, ‘ভ্যাটের প্রভাব আমাদের ৮ লাখ প্রবাসীর মধ্যে বিশেষ করে যারা শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী তাদের ওপর প্রত্যক্ষভাবে পড়বে।

‘এমনিতেই ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাতে ভ্যাটের কারণে একজন প্রান্তিক শ্রমিকের যে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ তা বলাই বাহুল্য। তাই যার বেতন ৮ শ দিরহাম তার আয়ে এই ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নেহাত কম না।’

জানা গেছে, এদেশে এখন জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে তাতে কমবেশি সবাইকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাচ্চাদের স্কুলের টিউশন ফি বাড়তেই আছে। ঘরভাড়া, গাড়ির পার্কিং ফি থেকে শুরু করে গ্রোসারি সবকিছুর মূল্য এমনিতেই বাড়তি তার ওপর ভ্যাট।

আমিরাতে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছে। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিসা বন্ধ থাকার পরও সেখানে আট লাখ প্রবাসী বসবাস করছেন।

Leave a Reply