শাকিবের সংসারে ফেরা হচ্ছে না অপুর !!

শাকিব-অপুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল ৩ এর কার্যালয় থেকে ১৫ জানুয়রি সমাঝোতা সালিশের বৈঠকের আহবান করা হয়। সে অনুযায়ী সোমবার সকালে অপুর আসলেও আসেননি শাকিব খান। তাই বাধ্য হয়ে সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল ৩-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেনের সাথে একাই তালাক নোটিশের বিপরীতে সমঝোতা বৈঠকে বসেন অপু।

বছর খানেকের মত অন্তরালে থাকার পর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর জানান অপু বিশ্বাস।

২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয়। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় ছেলে আব্রাহাম খান জয়ের।

টিভি চ্যানেলে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর জানানোর পর থেকেই শাকিবের সঙ্গে অপুর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর নিকেতনে একাই থাকছেন অপু।

অপুর-শাকিবের দূরত্ব শেষ পর্যন্ত ডিভোর্সে এসে গড়ালো। ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে শাকিব খান তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন। এর পর থেকে শাকিব দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যদিও তিনি ছবির সুটিংয়ের জন্য রয়েছে।

কর্পোরেশনের অঞ্চল ৩ এর কর্মকতা মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, ‘শাকিব খান একটি সাদা কাগজে লিখিত আকারে অপু বিশ্বাসের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। কিন্তু তিনি এর সাথে কাজী অফিসের সিলসহ আলাদা তালাক নোটিশ, সাক্ষি, হলফনামা কিছুই দেননি। ’

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘শাকিব যে কাগজপত্র পাঠিয়েছেন, তা দেখে এখানকার কর্মকর্তারা বিস্মিত। এখানে শুধু বিষয় লেখা আছে ডিভোর্স। কিন্তু কী কারণে, কেন তা লেখা নেই। ’

শাকিব খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘তখন অপু বিশ্বাস কোথায় থেকে কাজী এনেছে তা মনে নেই শাকিব খানের। তাই আমরা কাবিননামা দিতে পারেনি। তাছাড়া হলফনামা কেন দিতে হবে বুঝতে পারছি না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ক্লায়েন্ট শাকিব খান দেশের বাইরে আছেন। ওখান থেকে তিনি আমাকে বলেছেন, সমঝোতা চান না। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না দেখে সালিশে যাইনি। ’

ক্ষুব্ধ অপু বিশ্বাস বলেন, ‘এখন তারা যদি ছেলেমানুষি কাগজ দিয়ে বলে— যা দিয়েছি তা ওকে। তাহলে তো আমাকেও উপযুক্ত কিছু করতে হবে। কারণ এটাতে তারা আমার মানহানি করছে। যদি ডিভোর্স দিতে হয় তাহলে উপযুক্ত কারণ দেখাতে হবে। যেহেতু বিনা কারণে বিনা কাগজে এ ধরনের কথা বলছে তাতে আমার সম্মানহানি হচ্ছে। আরো অনেক কিছু হানি হচ্ছে। পরবর্তীতে জিনিসটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখব না। ’

বৈঠকে শাকিব বা তার কোনো প্রতিনিধি না আসায় বেশ কষ্ট পেয়েছেন অপু। তিনি মনে করেন, শাকিব না থাকতে পারলেও তার পরিবার, আইনজীবী বা বন্ধু-বান্ধবরা থাকতে পারতেন। কারণ বিবাহ যেমন একপক্ষীয় ব্যাপার না, বিচ্ছেদও একপক্ষীয় না।

অপু বলেন, ‘ওর সাথে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ওর সাথে অনেকদিন দেখা নাই। ভেবেছিলাম এখানে দেখা হলে, সামনাসামনি কথা-বার্তা হলেও সবকিছুর অবসান হবে। ’

আপনার চাওয়াটা কী? ‘আমার চাওয়া থাকতো আট বছর আগে— পজেটিভ, নেগেটিভ। যেহেতু আমার এখন একটা বাচ্চা আছে, আমি ধর্মান্তরিত হয়েছি। বাচ্চার স্বার্থে ও ধর্মান্তরিতের স্বার্থে সংসারটা আমি চাই। ’

তিনি আরো বলেন, ‘শাকিব যদি রাগের মাথায়ও (বিচ্ছেদের আবেদন) করে থাকে তাহলেও বলব তার একটা বাচ্চা আছে। তার ক্যারিয়ার আল্লাহ অনেক দিয়েছে, সুনাম, টাকা-পয়সা যা যা দরকার আল্লাহ সবই পূরণ করেছে। যে এখনো জীবন শুরুই করতে পারেনি, তার দিকে তাকিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া উচিত।

Leave a Reply