আড়াই টাকায় এক কেজি চাল !!

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ লাখ। যার প্রায় ৫০ শতাংশ বাসিন্দার জন্য দুই রুপি( বাংলাদেশি মুদ্রায় ২.৫৯ টাকা) কেজি দরে চাল ও গম নেয়ার কার্ড করেছে পৌর প্রশাসন। অর্থাৎ, এ শহরের অর্ধেক বাসিন্দাই দুই রুপি কেজির চাল ও গম পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করছেন পৌরসভার কর্মকর্তারা।
ভারতের ‘এ ওয়ান’ শহরগুলির তালিকায় প্রথম দিকেই রয়েছে কলকাতা। যে শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির চাল ও গম বরাদ্দ হচ্ছে, সেই শহরের ‘এ ওয়ান’ তকমা কতটা যুক্তিযুক্ত? এসব নিয়ে তোলপাড় পৌর মহল।

পৌরসভা সূত্রে আরও খবর, এখনও কার্ড নথিভুক্তির কাজ চলছে। তাই সংখ্যাটা কোথায় পৌঁছাবে, তা নিয়ে অস্বস্তিতে পৌর কর্মকর্তাদের একাংশ। এ ব্যাপারে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুসারে সমাজের বিশেষ শ্রেণির আর্থিক অসুবিধার কথা ভেবেই ওই প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়েছে, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (এএওয়াই), বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত (এসপিএইচএইচ), অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত (পিএইচএইচ) বাসিন্দারা তিন রুপি কেজি দরে চাল এবং দু’রুপি কেজি দরে গম পাবেন। এর জন্য প্রতিটি রাজ্যে ওই খাতে অর্থ বরাদ্দও করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

খাদ্যমন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্যই ওই প্রকল্প। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত তিন রুপির পরিবর্তে চালের দর দুই রুপি করেছে। অর্থাৎ, প্রতি কেজি চালে বাড়তি এক রুপি করে আলাদা ভর্তুকি দেয় রাজ্য সরকার। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ওই প্রকল্পের বাইরেও রাজ্য সরকার রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ এবং ২ নামে পৃথক দুটি প্রকল্প চালু করেছে। যার মধ্যে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ (আরকেএসওয়াই) তালিকাভুক্ত মানুষ দুই রুপি কেজি দরে চাল ও গম পাবেন। আর যোজনা ২ (আরকেএসওয়াই) তালিকাভুক্ত মানুষকে ১৩ রুপি কেজি দরে চাল এবং ৯ রুপি কেজি দরে গম দেয়া হবে।

এখন দেখা যাচ্ছে, দু’রুপি কেজি দরে চাল এবং গম পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের তিনটি এবং রাজ্যের একটি, মোট চারটি প্রকল্পে কলকাতা শহরে কার্ড করা হয়েছে ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৫ জনের। গত জনগণনা অনুসারে কলকাতাবাসীর সংখ্যা ৪৫ লাখের কাছাকাছি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, শহরে ওই প্রকল্পের কার্ড নেয়ার এত লোক বাস্তবে রয়েছে কি? কীভাবেই বা এত কার্ড করা হলো?

পৌরসভার এক কর্মকর্তার কথায়, কার্ড করার পদ্ধতিতেই গলদ ছিল। কারা ওই প্রকল্পের আওতায় আসবেন, তা যাচাইয়ের কাজ নিয়ম মেনে হয়নি। খাদ্যসাথীর ডিজিটাল কার্ড এত দ্রুত করতে হয়েছে যে, কারা তা পাওয়ার যোগ্য তা বাছা হয়নি। আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই ধরনের কার্ড করানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল যাদের, তারা তাহলে কী করেছেন? পৌর মহলে গুঞ্জন, পাইয়ে দেয়ার রাজনীতি করতে গিয়ে দেদার নাম ঢোকানো হয়েছে খাদ্যসাথীর তালিকায়।

অভিযোগ উঠেছে, শাসক দলের অনেক নেতা, কাউন্সিলরের লোকজন ভোটের রাজনীতির কথা ভেবে এমনটা করেছেন। সেই সংখ্যা এখন এতটা বেড়ে যাওয়াতেই টনক নড়েছে পৌর কর্মকর্তাদের। এখন তাদের চিন্তা, ‘এ ওয়ান’ শহর হিসেবে কলকাতা যে সুযোগ-সুবিধা ও অর্থ বরাদ্দ পায়, তা বহাল থাকবে তো!

কারা ওই কার্ড পাওয়ার যোগ্য?
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, যেসব পরিবার আর্থ সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে, তারাই ওই কার্ড পেতে পারে। তবে তার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। সেগুলি পূরণ হলে তবেই ওই কার্ড পাওয়া যাবে। পৌরসভার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথায়, সেই মাপকাঠি ধরলে ২১ লাখের তালিকা যে নিয়ম মেনে হয়নি, তা পরিষ্কার।

Leave a Reply