কুমিল্লায় ছাত্রী পিটিয়ে আহত; কথা বলতে পারছে না সে!

ভাইসহ পরিবারের লোকজনকে পিটিয়ে আহত করে সকালে। বিকেলে তাদের বোনকে একা পেয়ে বেধড় পিটিয়ে আহত করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেলেও কথা বলতে পারছে না ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সোহেদা। বর্তমানে সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। এ ঘটনার ৮দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে আটক করতে পারে নি।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কুরেরপাড় গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সোহেদা ওই গ্রামের আবদুল মতিনের মেয়ে।

জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর সকালে বাড়ির পাশে সোহেদার ভাই অটোরিকশার চালক নাইম ও একই গ্রামের হান্নান মিয়ার ছেলে রুহুল আমিনের (১৮) সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নাইমকে বেধড়ক মারধর করে তিনি। তা দেখে নাইমের মা-বাবা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও রুহুল আমিন ও তার পরিবারের লোকজন কিল ঘুষি মেরে আহত করে। কিন্তু এতেও রাগ কমেনি বখাটে রুহুল আমিনের। বিকালে নাইমের বোন সোহেদা (১৪) বই আনতে বান্ধবী বাড়িতে যাচ্ছিল। এ সময় রুহুল আমিনসহ তার পরিবারের লোকজন সোহেদাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে সোহেদার পরিবার তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঙ্গরা বাজারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। ৪দিন থাকার পর সোহেদার কোন উন্নতি না দেখে মঙ্গলবার রাতে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাইম বলেন, আমি অটোরিকশা চালাই। রুহুল আমিনের কথামত না যাওয়ায় ভাড়া নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যয়ে আমাকে মেরে আহত করে। পরে আমার পরিবার-পরিজন প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও মেরে আহত করা হয়। ঘটনার দিন বিকালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া আমার বোনকে একা পেয়ে তাকেও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে রুহুল আমিন ও তার পরিবার। আমার বোন কথা বলতে পারছে না। কথা বলতে পারবে কি না ডাক্তার এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না।

বুধবার রাতে থানায় গিয়ে রুহুল আমিনসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। আমার পরিবার বোনের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চায়। অভিযুক্ত রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. জানে আলম বলেন, সোহেদার মাথায় আঘাত করার কারণে কোন কথা বলতে পারছে না। তাই তার উন্নত চিকিৎার জন্য কুমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, সোহেদার বড় ভাই ৪জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রঃ কুমিল্লা বার্তা

Leave a Reply