খালেদার হাজিরায় লাখো নেতাকর্মীর শোডাউন দিবে বিএনপি !

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ব‌্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। বিএনপি নেত্রীর যাত্রাপথে আদালত পর্যন্ত রাস্তায় অন্তত লাখো লোকের সমাগম ঘটাতে চাইছে দলটি।

খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে এরই মধ‌্যে নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের মধ‌্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে ঐক‌্যবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। এজন‌্য খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পূর্বাপর সময়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিএনপি যে সক্ষম, সেটি স্পষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেবেন বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে অবস্থিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশে। তার এই পুরো যাত্রায় গাড়িবহর ঘিরে থাকবে লাখো নেতা-কর্মীদের বহর। সেই লক্ষ‌্যে সোমবার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সাংগঠনিক সভা করেছে।

সোমবার এক সাংগঠনিক সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল মহানগর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সামনের আন্দোলন সব অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্দোলন, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে যদি কোনো রকম ষড়যন্ত্র করা হয় সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আন্দোলন।’

‘সেজন্য এবার সবাই মাঠে নামার প্রস্তুতি নিন, দেখা হবে রাজপথে। কত শক্তি আছে তাদের, দেখব আমরা।’

সভায় বক্তব্য রাখতে মাঠ পর্যায়ের নেতারা বলেন, ‘সন্মান রেখে আমরা বলতে চাই, কেন্দ্রীয় নেতারা যারা সেই দিন রাস্তায় নামবেন না পরের দিন তাদের বাসায় গিয়ে আমরা চুড়ি পরিয়ে দেব। আমরা এবার দলের সিনিয়র নেতাদের রাস্তায় দেখতে চাই।’

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে প্রস্তুতি সভা করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ। সভা করেছে, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলসহ অন‌্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও। রোববার বিকেলে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসব সাংগঠনিক সভার উদ্দেশ‌্য খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাজপথে লাখো নেতা-কর্মীদের শোডাউন।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের দায়েরকৃত আলোচিত মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান রায়ের দিন ঠিক করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানও এ মামলার আসামি। মুদ্রা পাচারের দায়ে সাত বছর কারাদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। এমামলাতেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

যদিও খালেদার আইনজীবী রেজাক খান বলেছেন, ‘এটি একটি অসার মামলা। খালেদা জিয়ার খালাস পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ মামলা সারহীন। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আসামিপক্ষের অধিকাংশ যুক্তিও খণ্ডন করতে পারেনি।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে ষড়যন্ত্র করে দুর্নীতির মামলাকে ব‌্যবহার করছে। তারা বলছেন, বিএনপি নেত্রীকে শুধু হয়রানি করার জন্য জাল নথি ও ভুয়া তথ্য দিয়ে এ মামলা সাজানো হয়েছে। যদি ন্যায় বিচার ও সঠিক বিচার হয় তাহলে বেগম জিয়া সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

Leave a Reply