বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সৌদি-আমিরাত: নোবেলজয়ী কারমান !!

ইয়েমেনে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নেতৃত্বাধীন জোটের দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইয়েমেনি নাগরিক তাওয়াক্কুল কারমান বলেন ইয়েমেনিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সৌদি-আমিরাত।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অভ্যুত্থানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অধিকতর প্রভাব আর আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরব ও আমিরাত ইয়েমেনিদের বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি এটাকে বেইমানি আখ্যা দিয়েছেন।

ইয়েমেনের পরিচিত সাংবাদিক তাওয়াক্কুল কারমান। আরব বসন্তে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান তিনি। কারমান অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাবুহ মানসুর হাদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়েমেনের এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই নারী যা বলছেন তার কোনও অর্থ নেই। প্রেসিডেন্ট হাদি গৃহবন্দি নন এবং তিনি যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারেন। সরকার ও জোট তাকে সম্পূর্ণ সহায়তা করছেন।

 

 

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে পদত্যাগ করেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদি। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওই সময় দেশটির রাজধানী সানার দখল নেয়। পরের কয়েক মাসে হাদি রিয়াদে পৌঁছানোর পর ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি আরব ও আমিরাতের জোট। হাদি সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা ওই যুদ্ধের বিষয়ে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ৭০ লাখ ইয়েমেনি নাগরিক এখন দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছেন।

 

কারমানের অভিযোগের বিষয়ে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাদির অনুরোধেই ইয়েমেনে অভিযান চালানো হয়। আর এর লক্ষ্য ছিলো ইয়েমেনের শাসনক্ষমতা হাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অখণ্ড ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

 

 

তবে কারমান বলছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন ইয়েমেনসহ ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্নয়ন থেকে পিছু হটছে। আরব বসন্তকে তারা তাদের প্রথম শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। আর এটাকেই তাদের প্রথম কৌশলগত ভুল বলে মনে করেন কারমান। তিনি দেশ দুটিকে আরব বসন্তকে ভুল বিবেচনা করা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান।

 

এর আগে সৌদি আরব ও আমিরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারমানের সমালোচনায় প্রচারণা শুরু করে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই কারমানকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক ও ইয়েমেনে তুরস্কের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী হিসেবে অভিযুক্ত করছেন।

 

 

সুইডেনভিত্তিক আইআরআইএন নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ জনংযোগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইয়েমেনে তাদের লাখ লাখ ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। ওই সহায়তার কারণে হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরগুলোতে আমদানি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমে গেছে। লোহিত সাগর দিয়ে ইয়েমেনে যাওয়া প্রত্যেকটি জাহাজে সৌদি নজরদারি চালু থাকার কথাও ওঠে আসে ওই অনুসন্ধানে।

Leave a Reply