অসহায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর গল্প শোনলে চোখ ‍দিয়ে পানি চলে আসবে দয়া করে সবাই প্রতিবাদ জানাবেন !!

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ভেতর এক কোনে হুইল চেয়ারে বসে শুধু চোখের পানি ফেলছেন মাইনুল ইসলাম (৪০) নামে এক বাংলাদেশী। তার বোবা কান্না যেনো দেখার কেউ নেই!

 

দুর থেকে অসহায় এ মানুষকে দেখে এগিয়ে আসেন সেই সময় সরকারি কাজে বিমানবন্দরে থাকা মালয়েশিয়াস্থ  বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যান  সহকারী মোকসেদ আলি ও মিরান লস্কর নামে এক প্রবাসী। জানতে পারেন ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে পাঠানোর নাম করে অন্য এক বাংলাদেশী দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে মাইনুলকে এখানে রেখে  চলে গেছেন। সেই বাংলাদেশীর  বিস্তারিত বলতে  পারেননি অসুস্থ মাইনুল। এসময় কথা বলতেও কষ্ট  হচ্ছিল মাইনুলের।

সংক্ষিপ্ত  কথার ফাঁকে মাইনুল  জানান দালালের  মাধ্যমে সাগর পথে তিনি মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন। কাজ করতেন জহুর বারু। অসুস্থ  হয়ে এক পাশে প্যারালাইজড হওয়ার পর দেশের  যাওয়ার জন্য আবারো দালালের শরণাপন্ন হন। তাকে দেশে পাঠানোর নামে দেড় লক্ষ টাকা দালাল হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানান। বলেন অনেক কষ্টে বাড়ি থেকে এই টাকা পাঠিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। সেই দালাল-ই প্রাথমিক চিকতসার ব্যাবস্থা করে এখানে ফেলে রেখে গেছেন বলে জানান মাইনুল।

 

নাটোরের বাগাতিপাড়ার সেরাজুল ইসলামের ছেলে মাইনুল’কে সেই রাতে মালয়েশিয়ার সেরডাং হাসপাতালে নেয়ার ব্যাবস্থা করা হয়। হাইকমিশনের কল্যানসহকারী মোকসেদ আলী জানান, অসুস্থ প্রবাসীদের দেশে পাঠাতে যেখানে  মাত্র চার’শ রিঙ্গিত (আট হাজার টাকা) খরচ হয় সেখানে মাইনুলের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে সাড়ে সাত হাজার রিঙ্গিত (দেড় লক্ষ টাকা)। হুইল চেয়ারসহ অসুস্থ রোগীকে বিমানে ফ্লাই করাতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় সেটিও দেয়া হয়নি। যার ফলে টিকিট থাকলেও তাকে বিমানে উঠায়নি রিজেন্ট এয়ারওয়েজ  কর্তৃপক্ষ। মাইনুলকে দেশে পাঠাতে সবধরনের   সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ কল্যাণসহকারী।

 

 

এদিকে সেরডাং হাসপাতালে মাইনুলকে দেখতে যান মালয়েশিয়া শ্রমিকলীগের নেতৃবৃন্দ যারা বিমানবন্দর থেকেই সহযোগীতা করে আসছেন। হাসপাতালে দেখতে যাওয়া শ্রমিক নেতা নাজমুল ইসলাম বাবুল ও শাহ আলম হাওলাদার  জানান, রুগীর অবস্থা  সঙ্কটাপূর্ণ। ডাক্তার  জানিয়েছেন যে, তার ব্রেনে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এখুনি অপারেশনের প্রয়োজন। আর সেজন্য প্রায় বিশ হাজার রিঙ্গিতের প্রয়োজন। অসহায় মাইনুলের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের  সহযোগীতা চেয়েছেন এ শ্রমিক নেতা।

 

 

সেরাডাং হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে মাইনুল আর তার দেশের ফেরার প্রতীক্ষায় ক্ষণ গুনছে স্বজনেরা। ডাক্তার জানিয়েছেন অর্থের সংগ্রহ না হলে প্রাথমিক চিকিতসা দিয়ে তাকে দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।

 

দরিদ্র পরিবারের অসুস্থ, অসহায় মাইনুলের এ গল্প যেনো এক অসহায় প্রবাসীর গল্প! যে কিনা  জীবন যুদ্ধে নেমেছে পরিবারের স্বচ্ছলতা এনে দিতে অথচ নিয়তির  নির্মম পরিহাসে নিজেই  এখন পরিবারের বোঝা। মাইনুলকে  সুস্থ করে দেশে পাঠানো সম্ভব সকলের সহযোগীতায়।

 

মাইনুলকে সহযোগীতা করতে যোগাযোগ করতে পারেন দুতাবাসের মোকসেদ আলি (+60123656540) ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম বাবুলের (+60123100472) সঙ্গে।

Leave a Reply