কী আছে সৌদি প্রবাসীদের ভাগ্যে ? বিস্তারিত পড়ুন ।।

সৌদি আরবে এখন আর আগের মতো টাকার গাছ নাই, যে ঝাঁকি দিলেই টাকা পড়বে! সৌদি আরবে হঠাৎ করে কর্মসংস্থান একেবারে নেই বললেই চলে! কাজের এখন অনেক সংকট, দিনকে দিন বেকারত্ব বেড়ে চলেছে, যা রীতিমতো সবাইর মাঝে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে!’

সৌদি আরবে বর্তমানে এখানে ৫০ ভাগ বাংলাদেশী লোকের কাজ নেই। এখানে দিন দিন বেকারত্তের হার বেড়েই চলছে যা রীতিমতো শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন নতুন করে লোক আসছে। হঠাৎ করে কর্ম সংস্থান একবারে নেই বললেই চলে। কাজের এখন অনেক সংকট, আর যারা নতুন করে এসেছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৯০শতাংশ লোক বেকার। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ নতুন করে যাতে কোন লোক সৌদি আরব আসবেন না।

সৌদি আরবে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরা পর্যন্ত কাউকে নতুন করে না আসার অনুরোধ করছি। যারা ফ্রি ভিসায় আসছেন, তারা সামনে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক আসছেন, প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা খরচ করে। সবার ধারণা একটাই, সৌদি আরবে যেতে পারলে কাজ করে টাকা তুলতে সময় লাগবে না। এই বিশ্বাস এক বছর আগেও ঠিক ছিল। কিন্তু বর্তমানের বাস্তবতা একেবারেই অন্যরকম। তা বলতেই তিনটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করব আমার লেখা।

১. গোটা পৃথিবী জুড়ে যখন অর্থনীতির মন্দ হাওয়া বইতে থাকে তখন সৌদি আরবের অর্থনীতি ছিল খুবই শক্ত। এই দেশের কেউ
বুঝতেই পারেননি বিশ্ব অর্থনীতি এতটা মন্দার কবলে। পশ্চিমের দেশগুলো যখন নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল তখনো সৌদি আরবে চলতে থাকে উন্নয়নকাজ।

একজন শ্রমিক যে কোনো কাজ করলেই মাসে অন্তত ৫০-৬০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারতেন। আর যারা একটু টেকনিক্যাল কাজ জানেন তাদের রোজগার ছিল এক লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু ইয়েমেন যুদ্ধ আর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকার কারণে সৌদি আরবের অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূলত এ দেশের অর্থনীতি জ্বালানি তেল নির্ভর। আর সে কারণেই কমেছে কর্মসংস্থান, আর বেড়েছে জীবনযাপনের ব্যয়।

২. বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন বাড়ছিল তখন সৌদি আরবের অভ্যন্তরের জ্বালানি তেলের দাম ছিল সবচেয়ে কম। কিন্তু বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় সৌদি আরবের অভ্যন্তরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। কয়েক মাস আগেও অকটেনে দাম ছিল ৬০ পয়সা, বর্তমানে ৯০ পয়সা। পেট্রল ছিল ৪৫ পয়সা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়ে ৭৫ পয়সায়। ডিজেলের দাম ছিল ২৫ পয়সা, বর্তমানে ৪৫ পয়সা।

৩. অনেক বড় বড় কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। আর যে সব কোম্পানি এখনো চলছে, সেখানেও চলছে শ্রমিক ছাঁটাই করার প্রতিযোগিতা। বেতন কমিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। শোনা যাচ্ছে, শতকরা
২০ ভাগ বেতন কমাতে পারে দেশটির সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানগুলো। এটাতো গেল যারা কোম্পানিতে করছেন তাদের হিসাব। আর যারা ফ্রি ভিসায় আছেন (যখন যে কাজ পায় সে কাজই করেন) তাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়।

ফ্রি ভিসাধারী কাজ করুন আর নাই বা করুন, কফিলকে (মালিক) নির্দিষ্ট ফি দিতেই হবে। না হলে আকামা (এ দেশে থাকার বৈধতা) হবে না। তারপর নিজের চলার খরচ, আকামার জন্য সরকারি ফি, আর দেশে টাকা পাঠানো তো আছেই। তাই অনেকেই চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। নিজের চোখে দেখা একটি ঘটনার কথা বলছি। হাইয়াল উজারত নামে একটি এলাকায় থাকি আমি।

এখানে বাঙালি, ভারতীয় আর পাকিস্তানিরাই বেশি। বাঙালিরা এই এলাকাটিকে সংক্ষেপে হারা বলেন। এখানে অবৈধ লোকের অভাব নেই। তাই মাঝে মাঝে এখানে পুলিশের অভিযান চলে। কদিন আগেও পুলিশ হারাতে অভিযানে এসেছিল অবৈধ লোক ধরবে বলে। কিন্তু ঘটল
তার উল্টো ঘটনা। অবাক হয়ে পুলিশ দেখল কয়েকজন বৈধ লোকও উঠে বসেন পুলিশের গাড়িতে। তাদের প্রশ্ন করা হলো, তোমরা কেন দেশে যেতে চাও? উত্তর একটাই, কাজ নেই।

এখানে থাকা খাওয়ার খরচই তো জোগাড় হয় না এখন। তার সঙ্গে রয়েছে কফিল, আকামা আর দেশেই বা টাকা পাঠাব কি করে। বর্তমানে যারা সৌদি আরবে আসতে চান, তারা যেন বাস্তব ঘটনা জেনে এ পথে পা বাড়ান। না হলে বড় বিপদে পড়তে হবে। টাকা খরচ করে এলে ফিরে যাওয়া খুব কঠিন হয়। তখন জীবনের সবটুকু দিয়ে চলে টিকে থাকার লড়াই। এ লড়াইয়ের সঙ্গেই ব্যর্থ হয় জীবন।

শাহ আলম শরাফতি নামে একজন প্রবাসী বলেন, “বর্তমানে এখানে বাংলাদেশিদের ৫০ ভাগ লোকের কাজ নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে বেকার বসে আছেন। আর যারা নতুন করে এসেছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ লোক বেকার। একজন ব্যক্তি ফ্রি ভিসায় আসলে মাসে সর্বোচ্চ গড়ে ৪৫ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

বছরে তা দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কফিলকে দেওয়ার পর হাতে থাকবে মাত্র সাত হাজার টাকা। এর মধ্যে বছরের প্রায় ছয় মাসেই বেকার থাকলে এত টাকা জোগাড় করা আর আকামা নবায়ন করা সম্ভব হবে না। আর আকামা ছাড়া ফ্রি ভিসায় আসা ব্যক্তি অবৈধ হয়ে যাবেন। তখন অবৈধ ভাবে থাকার কারণে জেল জরিমানা হবে। দেশে যেতে হলে জেল খেটে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুনেছি, আগামী জুন থেকে প্রতিমাসে, জনপ্রতি আরও আট হাজার টাকা করে বেশি দিতে হবে, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
লেখকঃ আহমেদ রানা, সৌদি আরব প্রবাসী ।

Leave a Reply