কোর্ট ম্যারেজে বিয়ে কি বৈধ ?? জেনে নিন !!

কোর্ট ম্যারেজ শব্দটি আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কেউ পালিয়ে গিয়ে কিংবা সবার অজান্তে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করে থাকেন। কোর্ট ম্যারেজ সম্পর্কে অনেকেই অজ্ঞ। আইনে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলে কোনো বিধান নেই। এটি একটি লোকমুখে প্রচলিত শব্দ। কোর্ট ম্যারেজ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণে পরবর্তী সময়ে অনেক আইনি ঝামেলার মধ্যেও পড়তে হয়।

 

আমাদের সমাজে অনেক উঠতি বয়সী ছেলেমেয়ে, প্রেমিক-প্রেমিকার কোর্ট ম্যারেজ বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করার প্রচলন আছে। আইনের দিক থেকে এই কোর্ট ম্যারেজ অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে কতটা নির্ভরশীল সেই সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা না রেখেই অনেকেই আবেগকে প্রশ্রয় দিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করেন। কোর্ট ম্যারেজ বা আদালতের মাধ্যমে বিয়েকে পূর্ণাঙ্গ বিয়ে ভেবে থাকেন অনেকেই। অনেক সময় প্রেমিক-প্রেমিকা আদালতপাড়ায় আইনজীবীর চেম্বারে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করতে চান।

 

অনেক আইনজীবীও কোর্ট ম্যারেজের বিষয়টি ব্যাখ্যা না দিয়ে বিয়ের একটি হলফনামা সম্পন্ন করে দেন। কিন্তু কোর্ট ম্যারেজ যে পূর্ণাঙ্গ বিয়ে নয়; সেটি জানেন না অনেকেই। অনেকেরই ধারণা, কেবল অ্যাফিডেভিট করে বিয়ে করলে বন্ধন শক্ত হয়। ধারণাটি সম্পূর্ণরূপে ভুল।

কোর্ট ম্যারেজ কী?
কোর্ট ম্যারেজ বলে আইনে নির্দিষ্ট করে সঠিক কিছু উল্লেখ নেই। নারী-পুরুষরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাস করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে যে হলফনামা সম্পাদন করে তা-ই ‘কোর্ট ম্যারেজ’ নামে পরিচিত।

প্রচলিত অর্থে কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত হলফনামার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের ঘোষণা দেওয়াকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এ হলফনামাটি ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।
অর্থাৎ এ হলফনামার মাধ্যমে বর-কনে নিজেদের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে মর্মে ঘোষণা দেন মাত্র। বিয়ে বা বন্ধন হিসেবে আলাদাভাবে এর কোনো (কোর্ট ম্যারেজ) আইনগত ভিত্তি নেই।

কোর্ট ম্যারেজের পর যে বিষয়গুলো অবশ্যই করতে হবে-

বিয়ে নিবন্ধন
এ রকম কোনো বিয়ে (কোর্ট ম্যারেজ) যদি নিবন্ধন না করা হয়, তা হলে আইনগত কোনো ভিত্তি থাকে না। কোর্ট ম্যারেজ বিয়ের একটি ঘোষণা মাত্র। বৈধ উপায়ে বিয়ে করে কাজীর কাছ থেকে নিবন্ধন করিয়ে নিয়ে তবেই কেউ ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা অ্যাফিডেভিট করতে পারেন। নিবন্ধন বা কাবিননামা যদি না থাকে, তবে অ্যাফিডেভিটে আইনগত অধিকার আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সাক্ষীদের উপস্থিতি
সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া কখনই বিয়ে সম্পন্ন হবে না। বিয়েতে সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এর পর তারা ইচ্ছা করলে এ হলফনামা করে রাখতে পারেন। পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে না করে শুধু এ হলফনামা সম্পন্ন করা উচিত নয়। অনেক সময় বিয়ের হলফনামায় আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য শর্তগুলো মানা হয় না। বিশেষত, সাক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়াই এটি করা হয়। এতে বিয়ের হলফনামাটি পরিপূর্ণ হয় না।

Leave a Reply