অজ্ঞাত যে স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হানিপ্রীতকে !!

মচকালেও ভাঙবে না। বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের কথিত দত্তক-কন্যা হানিপ্রীত ইনসানকে প্রাথমিক জেরার পর এ কথা ভালোই বুঝেছে ভারতীয় পুলিশ। আর তারপরই শুরু নতুন দাওয়াই। অজানা জায়গায় তুলে নিয়ে গিয়ে অনবরত চলবে জেরা প্রক্রিয়া। তৈরি করা হয়েছে ৩০০টি প্রশ্নের তালিকাও।

প্রায় ৩৮ দিন চোর-পুলিশ খেলার পর হানিপ্রীতের হাতে হাতকড়া পরানো সম্ভব হয়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিয়েছিল হানিপ্রীত। কিন্তু তার আগেই পুলিশ গ্রেফতার করে ধর্ষক গুরমিতের দত্তক কন্যাকে। কিন্তু জেরা করতে গিয়ে পুলিশ দেখে, হানিপ্রীত পাকা অপরাধী। ক্রমাগত বয়ান পালটে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার খেলায় মেতেছে সে। কখনও কখনও শারীরিক অসুস্থতার নাটক করছে। কখনো বা কান্নায় ভেঙে পড়ছে।

কিন্তু এসবে অবশ্য চিড়ে ভেজেনি। শারীরিক পরীক্ষায় দেখা গেছে হানিপ্রীত পুরো সুস্থ। পুনরায় জেরা শুরু হলে, বহু প্রশ্নেরই জবাব এড়িয়ে গেছেন তিনি। ডেরায় যৌন কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সিরসার হিংসার ঘটনা নিয়ে তাকে যাই জিজ্ঞাসা করা হোক না কেন, হয় জানি না, নয় অন্য কিছু বলে এড়িয়ে গেছন তিনি। গুরমিত সিং সম্পর্কেও মুখ খুলতে নারাজ তিনি। আর তারপরই অন্য চিন্তাভাবনা শুরু করে পুলিশ। লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে গিয়ে হানিপ্রীতকে জেরার পরিকল্পনা নেয়া হয়।

তবে হানিপ্রীতকে সরাতে একপ্রস্থ নাটক করতে হয় পুলিশকেও। মহিলা পুলিশ অফিসারদের হানিপ্রীতের মতো সাজিয়ে দুটি আলাদা কনভয়ে আগে বের করে দেয়া হয়। সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি সেদিকে চলে যায়। এরপরই আসল হানিপ্রীতকে নিয়ে অজানা কোনো জায়গায় চলে যায় পুলিশ। সূত্রের খবর, প্রায় তিন শে’টি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যতদিন না সদুত্তর মেলে, ততদিন এই অজানা জায়গাতেই রাখা হবে হানিপ্রীতকে।

জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় হানিপ্রীতকে নিয়ে গিয়ে গত আটত্রিশ দিনের চোর-পুলিশ খেলার পুনর্নির্মাণ করছে পুলিশ। তারপর কোনো বন্দিশালায় নিয়ে গিয়ে জেরা করা হতে পারে। পুলিশের আসা, এই পর্বে অন্তত আর সত্যি গোপন করতে পারবে না হানিপ্রীত। এর আগে নারকো টেস্টেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল হরিয়ানা পুলিশ।

৪০ দিনে ৬ কেজি ওজন খুইয়েছেন জেলবন্দি গুরমিত
জেলে দ্রুত ওজন কমছে ধর্ষণের অপরাধী গুরমিত সিংয়ের। হরিয়ানার রোহতকের সুনায়রা জেলে বন্দি এই স্বঘোষিত গডম্যান গত ৪০ দিনে ওজন খুইয়েছেন ৬ কেজি।

জানা গেছে, অগাস্টের শেষে গুরমিত যখন জেলবন্দি হন, তখন তার ওজন ছিল ৯০ কেজি। এখন তা ৮৪ কেজি।

গুরমিত সিংয়ের বিরোধীদের কাছে এভাবে ওজন কমের ব্যাখ্যা রয়েছে। তাদের দাবি, হানিপ্রীত ইনসানের অদর্শনেই এভাবে দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছেন গুরুমিত। তা ছাড়া যেসব সুখস্বাচ্ছন্দ্য এতদিন তিনি ভোগ করে এসেছেন, জেলে সে সব কিছুই মিলছে না। যে ধরনের এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করতেন, তাই বা কে তাকে এখানে দেবে! যার জন্য বিদেশ থেকে খাবার পানি আসত তাকে এখন জেলের পানি পান করতে হচ্ছে, খেতে হচ্ছে জেলের খাবার।

অন্যরা অবশ্য বলছেন, জেলে বন্ধ হওয়ার পর থেকে গুরমিতের জীবনচর্যায় যে পরিবর্তন এসেছে তারই প্রভাব পড়েছে তার চেহারায়। শুধু যে জেলের খাবার খেতে হচ্ছে তাকে তা তো নয়, জেল কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ করা চাষের কাজেও হাত লাগাতে হচ্ছে। অন্য বন্দিদের সঙ্গে জেলের জমিতে শাকসব্জি চাষ করতে হচ্ছে তাকে। সুখে লালিত রাম রহিমের এ সব ব্যাপারে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পরিশ্রমে ওজন কমছে দ্রুত।

জানা যাচ্ছে, সিনেমায় অভিনয় করার জন্য গুরমিতের ফিটনেস ট্রেনার রেখে ওজন কমাতে চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। এক কথায়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্রেনাররা যা করতে পারেননি, জেলে রাত্রিবাস ৪০ দিনে তা করে দিয়েছে।

৫০ বছরের লাভ চার্জার বাবার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, মধুমেহ বা ব্লাডসুগারেও ভোগেন। ওজন কমে যাওয়ার পর তার ওষুধের ডোজ কমিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা জানাচ্ছেন, শারীরিকভাবে গুরমিত সুস্থ, কোনোরকম অসুস্থতার কথা জানা গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।

Leave a Reply