মৃতদেহ থেকে কেন রক্ত নেয়া হয় না, জানলে অবাক হবেন !!

চোখ, কিডনির মত দেহের আরও অনেক গুলো অঙ্গের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রযুক্তির আশীর্বাদে এগুলো প্রতিস্থাপন করে সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে অসুস্থ মানুষকে। কিন্তু একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষেরও প্রয়োজন অঙ্গগুলো। তবে কোথা থেকে অতিরিক্ত অঙ্গগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব? অনেকেই মরণোত্তর চোখ, কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ দান করে থাকেন। ফলে সম্ভব হচ্ছে চাহিদা মেটানো।

এদিকে পৃথিবীতে রক্তের চাহিদার তুলনায় রক্তদাতার পরিমাণ কম। তবে কি মৃত মানুষ থেকে রক্ত সংরক্ষণ করে রক্তের চাহিদা মেটানো যায় না?

কিন্তু মৃত মানুষ থেকে চোখ, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ সংরক্ষণ করা গেলেও সংরক্ষণ করা যায় না রক্ত। কারণ মৃতদেহ থেকে রক্ত সংগ্রহে রয়েছে কিছু জটিলতা।

দেহের মৃত্যুর পর রক্ত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া বন্ধের সাথে সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড, ল্যাকটিক এসিডসহ অন্যান্য বস্তু দূষিত পদার্থ এসে জমা হতে থাকে রক্তে। জীবিত অবস্থায় এগুলো কিডনি ও ফুসফুসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। রক্তে ক্ষারের মাত্রা (pH) স্বাভাবিক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায়। রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। অবশ্য এটা নির্ভর করবে কোনো ব্যক্তি কোন অবস্থায় মারা গিয়েছে তার উপর। যেমন কেউ জীবাণুঘটিত কোনো রোগে মারা গেলে মৃত্যুর পর ওই জীবাণু দ্রুত সমস্ত রক্তে ছেয়ে যেতে পারে। তখন দেহের আভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা জীবাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থাও সচল থাকে না।

তাত্ত্বিকভাবে বলা যেতে পারে, অতি দ্রুত রক্ত নিলে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থাৎ মৃত্যুর পর রক্ত যেহেতু দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় তাই মৃত্যুর সাথে সাথেই রক্ত সংগ্রহ করে নেয়া যেতে পারে। তবে এখানেও রয়েছে অন্য যুক্তি। দেহের অন্যান্য অঙ্গ, যেগুলো দান করার ক্ষেত্রে রক্তের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে ব্যবহার উপযোগী রাখতে হলে রক্তের উপস্থিতি প্রয়োজন। ওই অঙ্গগুলো বের করে নেবার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত রক্তের উপস্থিতি প্রয়োজন।

প্রশ্ন জাগতে পারে দেহের ওই অঙ্গ কেন রক্তের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত জীবিত মানুষেরা কোনো ক্ষতি ব্যতীত রক্ত দিতে পারলেও কিডনি, চোখ, ফুসফুস ইত্যাদি দিতে পারে না। জীবিত মানুষ যেহেতু রক্ত দিতে পারছে তাই মৃত মানুষের বেলায় রক্তকে ব্যবহার করে দুর্লভ অঙ্গগুলো সংগ্রহ করাই উত্তম।

দ্বিতীয়ত রক্ত সময়ের সাথে সাথে তৈরি হয়। একজন মৃত মানুষের কাছ থেকে রক্ত পাওয়া যাবে মাত্র একবার, কিন্তু রক্ত দানের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করে একজন জীবিত মানুষ থেকে প্রতি ৩/৪ মাস পর পর সারা জীবন রক্ত সংগ্রহ করা যাবে।

Leave a Reply