স্বর্ণাকে নিয়ে যা বললেন তার বাবা….! পড়ুন বিস্তারিত :

ইন্টারনেটের কারণেই মেয়েকে হারিয়েছি বলে জানিয়েছেন ব্লু-হোয়েল গেমে আসক্ত হয়ে হত্মহত্যাকারী তরুণী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার বাবা সুব্রতা বর্ধন। তিনি বলেন, যে দিন থেকে আমার মেয়ে ফেসবুক চালানো শুরু করেছে, সেই দিন থেকেই ওর পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বিডি২৪লাইভকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মরণঘাতী গেমের নাম ব্লু-হোয়েল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর এবার বাংলাদেশের মেধাবী তরুণ তরুণীদের মাঝে হানা দিচ্ছে এই গেম। রাশিয়ার এক তরুণ মরণঘাতী এই গেমটি তৈরি করেন। এই গেমের শেষ ধাপের নাম হচ্ছে মৃত্যু। ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টারনেটে ‘মরণ নেশার’ এ গেম খেলে সারা বিশ্বে ১৩০ জন মারা গেছেন বলে জানা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পরে, এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় অভিভাবকদের মধ্যে।

সুব্রতা বর্ধন বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার মেয়েকে হারিয়েছি আমি শুধু এই ইন্টারনেটের কারণে। ও (অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা) খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল। যে দিন থেকে ফেসবুক চালানো শুরু করল সেই দিন থেকে ওর পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতে শুরু করেছে। পঞ্চম শ্রেণির পরে স্বর্ণাকে হলিক্রস স্কুলে ভর্তি করি। আমার মেয়ে ফেল করবে এটা আমি কখন ভাবতে পারিনি। ফেসবুক ব্যবহার করার ফলে ও একটা সাবজেক্ট ফেল করে।

 

তিনি আরো বলেন, আমি আর আমার মেয়েকে ফিরে পাব না, আমি চাই আমার মতো আর কোনো বাবা মায়ের কোল যেন খালি না হয়। তাই দেশের প্রধানের কাছে আমার অনুরোধ, রাত ১২টার পর যেন ইন্টারনেট একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর তা না হলে প্রতিটা বাবা মা যেন তাদের সন্তানদের স্মার্ট ফোন না কিনে দিয়ে একটি নরমাল ফোন কিনে দেয়।

এদিকে এই গেম একজন কিভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন সে বিষয়টি জানা যায় মারণ ফাঁদ থেকে বেঁচে যাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারিধারায় অবস্থিত একটি মেয়ের কাছ থেকে। তিনি জানান, এটা কোনও অ্যাপ নয়। নয় কোনও গেমও। এটা শুধু একটা লিংক। প্রথম প্রথম খুবই মজার বিষয় থাকে, যেমন চেলেঞ্জিং টাইপ। আর এই গেম খেলতে যিনিই শুরু করেন, তাকে কয়েকটা টাস্ক দেন অ্যাডমিন। প্রত্যেক দিন সেই টাস্কগুলো শেষ করতে হয়। ওই গেম খেলতে ঢোকার পর কয়েকটা দিন কাটে মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই।

তিনি আরো জানান, একটা পর্যায়ে এসে অ্যাডমিন বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে শুরু করেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী খেলোয়াড়কে ভয়ংকর সিনেমা দেখতে বলা হয়, আবার ভৌতিক বই পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করতে করতে এক পর্যায়ে গিয়ে তাকে আত্মহত্যা করতে হয়। খেলার মাঝ পথ থেকে ফিরে আসতে দেয়না এডমিন, যদি কেউ ফিরে আসতে চায় তাঁকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। আমাকেও বলে ছিল মেরে ফেলবে। কিন্ত পরে আর কিছুই হয়নি।

 

Leave a Reply