মসজিদের জায়গায় মন্দির কোন যুক্তিতে: ভারতের সাবেক বিচারপতি !!

২৭ বছর আগে ১৯৯২ সালে ভেঙে ফেলা হয়েছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার ঐতিহ্যবাহী বাবরি মসজিদ। ১৫২৭ সালে নির্মিত এই মসজিদটি ছিল ভারতের পুরাকীর্তির এক অনন্য নিদর্শন। কিন্তু কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা ভেঙে দিয়েছিল এই মসজিদটি। এরপর থেকেই মসজিদের জমি নিয়ে শুরু হয় মামলা-মোকাদ্দম। গতকাল শনিবার (৯ নভেম্বর) ভারতের সুপ্রীম কোর্ট রায় দেয় বাবরি মসজিদের জায়গায় নির্মিত হবে মন্দির আর মসজিদ নির্মাণের জন্য দেয়া হবে আলাদা ৫ একর জমি। এ রায়ের ঘোষণা দেয়ার পর শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। সুপ্রীম কোর্টের এই রায়ের সমালোচনা করে ভারতের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও। তাদের মধ্যে একজন ভারতের সাবেক বিচারপতি অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকায় এক কলামে তিনি লিখেন, এই রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হল, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি না। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সেই আদালত একটা রায় দিলে তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না। চারশো-পাঁচশো বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেওয়া হল বর্বরদের মতো আক্রমণ চালিয়ে। আর আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে এ বার মন্দির হবে। সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে তো একটা বিষয় রয়েছে! এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যাতে দেশের সংবিধানের উপর থেকে কারও ভরসা উঠে যায়। আজ অযোধ্যার ক্ষেত্রে যে রায় হল, সেই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এই রকম কাণ্ড আরও ঘটানো হবে না, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন? শুধু অযোধ্যায় নয়, মথুরা এবং কাশীতেও একই ঘটনা ঘটবে— এ কথা আগেই বলা হত। যাঁরা গুন্ডামি করে বাবরি মসজিদ ভেঙেছিলেন, তাঁরাই বলতেন। এখন আবার সেই কথা বলা শুরু হচ্ছে। যদি সত্যিই মথুরা বা কাশীতে কোনও অঘটন ঘটানো হয় এবং তার পরে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়, তা হলে কী হবে? সেখানেও তো এই রায়কেই তুলে ধরে দাবি করা হবে যে, মন্দিরের পক্ষেই রায় দিতে হবে বা বিশ্বাসের পক্ষেই রায় দিতে হবে।

অযোধ্যা মামলা এর আগেও সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে। তখনই আদালত স্বীকার করে নিয়েছিল যে, বিতর্কিত জমিতে মসজিদ ছিল। যেখানে বছরের পর বছর ধরে নামাজ পড়া হচ্ছে, সেই স্থানকে মসজিদ হিসেবে মান্যতা দেওয়া উচিত, এ কথা আদালত মেনে নিয়েছিল। তা হলে আজ এই নির্দেশ এল কী ভাবে? যেখানে একটা মসজিদ ছিল বলে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই মেনেছে, সেখানে আজ মন্দির বানানোর নির্দেশ সেই সুপ্রিম কোর্টই দিচ্ছে কোন যুক্তিতে? ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (এএসআই) জানিয়েছিল, ওই মসজিদের তলায় একটি প্রাচীনতর কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সেই প্রাচীনতর কাঠামো যে মন্দিরই ছিল, এমন কোনও প্রমাণ তো মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট নিজেও মেনে নিয়েছে যে, পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের রিপোর্টে কোনও ভাবেই প্রমাণ হচ্ছে না যে, একটা মন্দিরকে ভেঙে ওখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল।

তা হলে কিসের ভিত্তিতে আজ মন্দির তৈরির নির্দেশ? বিশ্বাসের ভিত্তিতে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, অনেক হিন্দুর বিশ্বাস যে, ওখানে রামের জন্ম হয়েছিল। বিশ্বাস বা আস্থার মর্যাদা রাখতে ওই বিতর্কিত জমি রামলালা বিরাজমানের নামে দিয়ে দেওয়া হল। এটা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত হল? রামচন্দ্র আদৌ ছিলেন কি না, কোথায় জন্মেছিলেন, সে সবের কোনও প্রামাণ্য নথি কি রয়েছে? নেই। রাম শুধু মহাকাব্যে রয়েছেন। সেই সূত্রে অনেক মানুষের মনে একটা বিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের বলে একটা মসজিদের জমি মন্দিরের নামে হয়ে যেতে পারে না। কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নীচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস, তা হলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেওয়া হবে?

ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ করা তো আদালতের কাজ নয়। আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছয় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোন অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দিল, সেটা বুঝতে আমার অসুবিধা হয়েছে। বাবরি মসজিদ যে ওখানে ছিল, পাঁচ শতাব্দী ধরে ছিল, সে আমরা সবাই জানি। বাবরি মসজিদ যে গুন্ডামি করে ভেঙে দেওয়া হল, সেটাও আমরা দেখেছি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট এ দিনের রায়েও মেনে নিয়েছে যে, অন্যায় ভাবে মসজিদটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫২৮ সালের আগে ওখানে রাম মন্দির ছিল কি না, আমরা কেউ কি নিশ্চিত ভাবে জানি? রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ কি কেউ দাখিল করতে পেরেছিলেন? পারেননি। তা সত্ত্বেও যে নির্দেশটা শীর্ষ আদালত থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক নয় কি?

toto togel

situs togel

situs togel

sydney night

bento4d

situs slot

bento4d

toto macau

toto togel

situs togel

situs slot

situs togel

togel online

bento4d

toto togel

slot resmi

bento4d

link slot

thepubtheatre

togel online

slot resmi

slot online

togel resmi

toto togel

slot resmi

link slot

bandar togel

situs togel

slot online

slot thailand

toto togel

situs togel

situs togel

bandar togel

toto togel

toto togel

slot gacor

link gacor

situs togel

slot online

link slot

link slot

pafibuolkab.org

toto

slot gacor hari ini

toto slot

slot gacor

slot gacor

situs toto

toto slot

situs slot

lawrencehealthcenter.com

baselyne.io

hsddonline.com

link slot

slot gacor

link togel

slot gacor

slot resmi

slot88

slot resmi

slot resmi

slot gacor

slot gacor hari ini

togel resmi

slot online

bandar togel

toto slot

slot gacor hari ini

slot gacor hari ini

slot resmi

slot resmi

download jurnal

toto

bestforinteriors.nl/privacy/

togel resmi

maplweb.org

slot gacor hari ini

slot gacor

rtp slot

toto togel

slot resmi

slot online

link togel

togel

slot gacor hari ini

togel online

link slot

slot gacor hari ini

situs slot gacor

toto slot

slot online

slot gacor hari ini

slot 4d

slot online

slot gacor

slot online

link slot

link slot gacor

slot gacor hari ini

link gacor

togel online

link slot

bandar togel

rtp slot gacor

slot gacor

slot gacor hari ini

slot online

link togel

slot gacor hari ini

link slot

slot gacor

slot resmi

slot gacor hari ini

situs slot gacor

link slot gacor

situs slot gacor

slot resmi

slot gacor

togel resmi

slot gacor

slot resmi

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

bandar togel

situs gacor

slot777

rtp slot

togel online

situs slot

situs gacor

situs slot gacor

toto slot

bandar togel

link slot

togel online

situs gacor

slot gacor hari ini

togel resmi

slot resmi

slot gacor hari ini

link slot

toto togel

slot resmi

togel resmi

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *