দেশের খবর

চা উৎপাদনে ১৬৫ বছর পর রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ !!

মৌলভীবাজার জেলাসহ ১৬২টি চা বাগানে পরিবেশ অনুকুল থাকায় চা-শিল্পের ১৬৫ বছরের ইতিহাসে চলতি চা উৎপাদন মৌসুমে (২০১৯) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ চা-শিল্প।

চা সংশ্লিষ্টরা চায়ের বাম্পার ফলনের কারণ হিসেবে চা বাগানগুলোতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া, আর বিশেষ করে পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকা, খরার কবলে না পড়াসহ সর্বোপরি বাংলাদেশ চা বোর্ডের নজরদারিতে এবারও চা উৎপাদনে নতুন করে রেকর্ড করেছে বলে দাবি করেছেন।

বিদেশি কম্পানি ও সরকারি, ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোট বড় মিলিয়ে বাংলাদেশে ১৬২টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গলউপজেলাসহ জেলায় ৯২টি চা বাগান রয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি, আবহাওয়া অনুকূলসহ চা বাগানের সকল পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর চা উৎপাদন বাম্পার হয়েছে।

দেশের চা শিল্পের ১৬৫ বছরের ইতিহাসে চলতি চা উৎপাদন মৌসুমে (২০১৯) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ চা-শিল্প। গত (২০১৯) বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন চা উৎপাদন হয়েছে অর্থাৎ ৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা পাতা। বাংলাদেশ চা বোর্ড চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮ কোটি কেজি চা পাতা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের (পিডিইউ) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক বলেন, আবারও চা উৎপাদনে নতুন করে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট উৎপাদন ছিল ৯০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৯ কোটি কেজি চা পাতা ।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ৭৬ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে ১৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা বেশি উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ বছর চায়ের আভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমরা বিদেশে চা রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে চা শিল্প।’

শ্রীমঙ্গল জেমস ফিনলে টি কম্পানির ভাড়াউড়া ডিভিশনের ডিজিএম ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী সাংবাদিকদের জানান, ‘চায়ের উৎপাদন ভালো হলেও চায়ের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। ভারত থেকে নিম্নমানের চা চোরাইপথে বাংলাদেশে আসছে।

যা অত্যন্ত নিম্ন মানের খাওয়ার যোগ্য নয়। এতে বাজারে চায়ের কোয়ালিটি খারাপ করছে। এতে চা মালিকরা মূল্য ঠিকমতো পাচ্ছেন না।’ একই কথা জানালেন মৌলভীবাজার হামিদিয়া চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও শ্রীমঙ্গলস্থ নাহার চা বাগানের পীষুশ কান্তি ভট্রাচার্য্য।’

বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চা উৎপাদন মৌসুমে দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে ৮২ দশমিক ১৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা পাতা। যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

২০১৮ সালের চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ দশমিক ৩ মিলিয়ন অর্থাৎ ৭ কোটি ২৩ লাখ কেজি চা পাতা। এর আগে ২০১৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে ১৬২ বছরের চা শিল্পের ইতিহাসে দেশের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হয়েছিল ৮৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা পাতা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের (বিটিবি) উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মুনির আহমদ বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন প্রায় ৯৫ মিলিয়নের ওপরে। এটিই চায়ের ইতিহাসে দেশে সেরা রেকর্ড।

চা উৎপাদনে সাফল্যের পেছনে সরকারের নানামুখী দিক নির্দেশনাগুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমান সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে চায়ের উৎপাদন ১৪০ মিলিয়নে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

J A Suhag

Local News: J A Suhag writes Local News articles for industries that want to see their Google search rankings surge. His articles have appeared in a number of sites. His articles focus on enlightening with informative Services sector needs. he holds the degree of Masters in Business and Marketing. Before he started writing, he experimented with various professions: computer programming, assistant marker, Digital marketing, and others. But his favorite job is writing that he is now doing full-time. Address: 44/8 - North Dhanmondi, Dhaka Email: [email protected]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button