দেশের খবর

তেলে যেন পেঁয়াজের ঝাঁজ না লাগে, সতর্ক সরকার !!

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও এর দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ-ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকার চায় না কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম পেঁয়াজের পরিণতির দিকে যাক।

গত সেপ্টেম্বর থেকেই পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। ৩০ টাকার পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় উঠে নজিরবিহীন এক পরিস্থিতি তৈরি করে। এর পাশাপাশি আগের মাসের চেয়ে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার বাজারে ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চাল, খোলা আটা, খোলা ভোজ্যতেল, সরু দানার মসুর ডাল ও চিনির মতো পণ্য ছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তথ্যমতে, গত আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের বেশি সময়ে এক লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৪৭টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তারা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচে এক লাখ চার হাজার ৫৫৮ টন, অর্থাৎ ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার কেজি পেঁয়াজ আমদানি করেছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে তাদের খরচ হয়েছে গড়ে ৩৮ টাকা ২৬ পয়সা। অথচ সেই পেঁয়াজ তারা পাইকারি বাজারেই বিক্রি করেছেন বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারেও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেয় এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতোমধ্যে সবধরনের ভোজ্যতেলের দাম এক মাসের ব্যবধানে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে আজ (রোববার) ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। বৈঠকে ব্যবসায়ী ছাড়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর রোজা শুরুর ঠিক তিন থেকে চার মাস আগেই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ট্যারিফ কমিশনে দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে ওই প্রস্তাবে সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা করেন না ব্যবসায়ীরা। তারা আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেন। এবারও সরকারের অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনাকে ব্যবসায়ীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, কোনোভাবেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে দেয়া যাবে না। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দেবেন। ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে পেঁয়াজের মতো হতে দিতে চায় না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আজ বসেছিলাম। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বলার মতো তেমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে এ বিষয়ে আরও বৈঠক করতে হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়নি। ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে দুই রকম সুপারিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু কোথাও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়নি।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সয়াবিন তেল (লুজ) প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকায়, যা গত মাসের ২৯ নভেম্বর ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত মাসের একই দিনে ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা।

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই আগামী মে মাসে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান শুরুর দেরি থাকলেও সে সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে চিন্তিত সরকার। সে লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

বৈঠকে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ও হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া ১৮টি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ জাগো নিউজ

J A Suhag

Local News: J A Suhag writes Local News articles for industries that want to see their Google search rankings surge. His articles have appeared in a number of sites. His articles focus on enlightening with informative Services sector needs. he holds the degree of Masters in Business and Marketing. Before he started writing, he experimented with various professions: computer programming, assistant marker, Digital marketing, and others. But his favorite job is writing that he is now doing full-time. Address: 44/8 - North Dhanmondi, Dhaka Email: [email protected]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button