Internation News

বাইডেনের সামনে আছে যত চ্যালেঞ্জ !!

জো বাইডেন তার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই মুহূর্তটি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে গেছেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসার প্রথম দিন থেকেই তিনি যে কী বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। প্রথম দশ দিনেই তিনি বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারির কাজ শুরু করছেন। বাইডেনের সামনের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে রিপোর্ট করেছে বিবিসি।

এগুলো হল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে জারি করা নির্বাহী আদেশ, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। এই তালিকায় সবার উপরে আছে দুটি বিষয়। এক- বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাতিলের বিষয়। তার পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা হু’মকির কারণ দেখিয়ে প্রধানত যেসব মুসলিম দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, সেগুলো প্রত্যাহার। আর দ্বিতীয়টি হল প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আবার যোগদান।

আমেরিকায় করোনাভা’ইরাসে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪ লাখের বেশি মানুষ। এই ম’হামারি এবং দেশটিতে এর সূদুরপ্রসারী প্রভাব মোকাবেলা নতুন প্রশাসনের অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার উপরে থাকবে। বাইডেন বলেছেন ‘আমাদের প্রশাসনের জন্য এটা অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই’ এবং তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর সাথে সাথেই কোভিড মোকাবেলায় তার কৌশল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রথম দিনে জারি করা নির্বাহী আদেশে তিনি ফেডারেল অফিসগুলোতে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাইডেন টিকাদান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করতে চান। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল তার ক্ষমতায় প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে দশ কোটি মানুষকে করোনার টিকার অন্তত প্রথম ডোজ দিয়ে দেয়া। টিকা কর্মসূচি দ্রুততার সাথে করার একটা পরিকল্পনা হল যত ভ্যাক্সিন তৈরি আছে তার একটা অংশ দ্বিতীয় ডোজের জন্য মজুত রাখার বদলে, পুরোটাই একসাথে ছেড়ে দেয়া। এছাড়াও দ্রুত কোভিড পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু ও তা উন্নত করতে, এবং জাতীয় স্তরে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, এবং পিপিই-র সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর রাখার জন্যও তিনি নির্বাহী পদক্ষেপ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেবার প্রতিশ্রুতিও তার কার্যতালিকায় রয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী আদেশ এরই মধ্যে জারি করেছেন তিনি গ্রীষ্মে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ ছিল চীনে এই ভা’ইরাস প্রথম ধরা পড়ার পর সংস্থাটি কোভিডের বিস্তার ঠেকাতে এবং সংস্থায় ‘জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার’ আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

বাইডেনের প্রশাসনিক টিমের সদস্যরা বলেছেন বাসা ভাড়া না দিতে পারার জন্য ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ বা বাড়ি কেনার বন্ধকের অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার মেয়াদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা মি. বাইডেনের রয়েছে। ম’হামারি শুরু হবার পর এই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল। এছাড়াও সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের দেয়া ঋণের কিস্তি সুদসহ পরিশোধের প্রক্রিয়াও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। সেটিও চালু রাখতে চান বাইডে

করোনাভা’ইরাস ম’হামারির কারণে বিপর্যস্ত আমেরিকান অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের জন্য গত সপ্তাহে বাইডেন ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন যে ‘মানুষের দুঃসহ মাত্রার দুঃখকষ্ট যে একটা সংকটময় পরিস্থিতে পৌঁছেছে,তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে এবং এখন নষ্ট করার মত সময় হাতে নেই।’

বাইডেন বলেছেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পর প্রথম দিনই তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আমেরিকাকে আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন। এই চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন, যেটা ছিল শিল্পায়নের আগের বিশ্বের তাপমাত্রা। তারা অঙ্গীকার করেছিলেন সম্ভব হলে তাপমাত্রা তারা ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনার চেষ্টা করবেন।

ট্রাম্প ২০১৫ সালে সম্পাদিত ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। আমেরিকা ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা বিশ্বের প্রথম দেশ। জানুয়ারি ২০১৭য় ক্ষমতা গ্রহণ করার মাত্র সাতদিনের মাথায় ট্রাম্প কিছু দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্পের যেসব নীতি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই বাতিল করেছেন বাইডেন।

সাতটি মূলত মুসলিম প্রধান দেশ থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, পরে আদালতে এই বিধান চ্যালেঞ্জ করে মামলা চলার পর তালিকায় কিছু রদবদল করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর কোরিয়া।

অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বাইডেনের আরেকটি বড় প্রতিশ্রুতি হল তিনি দায়িত্ব নেবার পর প্রথম দিকেই কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করবেন, যার মাধ্যমে নথিবিহীন এক কোটি দশ লাখের ওপর অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেবার পথ প্রশস্ত হবে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিকে বাইডেন ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে যে ৫৪৫ জন অভিবাসী শিশু তাদের বাবা-মায়েদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে তাদের একত্র করার জন্য তিনি একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করবেন।

কোভিড, অর্থনীতি এবং জলবায়ুর পর চতুর্থ স্থানে রয়েছে বর্ণবাদের সমস্যা। বাইডেন বলেছেন তিনি দ্রুত এই সমস্যা মোকাবেলার কাজ শুরু করবেন। আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ যেসব ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্য প্রকট সেসব ক্ষেত্রকে তিনি অগ্রাধিকার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

J A Suhag

Local News: J A Suhag writes Local News articles for industries that want to see their Google search rankings surge. His articles have appeared in a number of sites. His articles focus on enlightening with informative Services sector needs. he holds the degree of Masters in Business and Marketing. Before he started writing, he experimented with various professions: computer programming, assistant marker, Digital marketing, and others. But his favorite job is writing that he is now doing full-time. Address: 44/8 - North Dhanmondi, Dhaka Email: [email protected]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button