দেশের খবর

মসজিদের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন আজহারী !!

করোনার ঠেকাতে মসজিদে না গিয়ে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়তে সরকার যে নির্দেশ দিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সময়ের আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আজহারী নিজের ফেসবুক পেজ থেকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তার দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো-

‘দেরি করে হলেও, একাধিক বৈঠক শেষে, সাধারন মুসল্লিদের মসজিদে না যাওয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের শক্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। প্লিজ, এবার অন্তত সবাই ঘরে সালাত আদায় করুন। আসলে, ফতোয়া বা নির্দেশনা বেশী ঘুরিয়ে পেচিয়ে না বলে, যতটা সহজ ভাবে উপস্থাপন করা যায় ততোই ভালো। আরো আগে থেকেই যদি এই সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হতে পারতাম, তাহলে হয়তো করোনা সংক্রামন আরো কমানো যেত। তারপরও ধন্যবাদ জানাতে চাই এই টাইমলি ডিসিশনের জন্য। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনে কোন কাঠিন্যতা রাখেননি। এটি একটি সহজ, সাবলীল ও পরিবেশ বান্ধব ধর্ম। এজন্যই ইসলাম কালজয়ী। যুগ, সময় এবং কাল ছাপিয়ে এতোটা অনন্য উচ্চতায় এজন্যই ইসলামের অবস্থান যে, এটি যে কোন যুগ বা সময়ের সাথে সহজেই খাপ খেতে পারে।

ইসলাম ধর্মের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল যে, এর বিধান পালন করা সহজ এবং সুবিধাজনক। এধর্মের কোন বিধান কখনো সমস্যা তৈরী করে না বরং সমস্যার যুগোপযোগী সমাধান করে। আর এ সমাধান উপস্থাপন করার দায়িত্ব সম্মানিত আলেম ওলামাগণের। কিন্তু সেই কাংখিত সমাধান সময় মত উপস্থাপন করতে যদি আলেম ওলামাগণ ব্যর্থ হন, তাহলে আলেম ওলামাগণ ধীরে ধীরে সমাজের জন্য অপ্রাসংগিক হয়ে পড়বেন এবং সাধারন ধর্মপ্রাণ লোকজনও আলেম ওলামাদের থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। সে ক্ষেত্রে ইসলামের কোন দায়ভার নেই দায়ভার আমাদের।

কুরআন বলছে, ‘আর তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি”। [সূরা হজ্জ, আয়াত:৭৮] ‘তিনি তোমাদের জন্য সহজ করতে চান জটিল করতে চান না।’ [সূরা বাকারাহ, আয়াত:১৮৫] তাই, আসুন সহজভাবে ইসলামকে উপস্থাপন করি। সূদুরপ্রসারী চিন্তায় ও দূরদৃষ্টি ভাবনায় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে রহমের বানী তালাশ করি। মসজিদে জামায়াত আপাতত বন্ধ হলেও, আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি ঘরকেই এখন মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!! তাই, এখনি সময় আত্নোপলব্ধির, রবের দিকে ফিরে আসার এবং প্রভুর দুয়ারে হাজিরা দেবার। পরিবারের সকলকে নিয়ে বাসায় জামায়াতে সালাত আদায় করুন। সমাজ বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ। গণ পরিবহন বন্ধকরে পায়ে হাটিয়ে শ্রমিকদের ঢাকায় এনে আবার ছুটির ঘোষণায় রীতিমত স্তব্ধ হয়েছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ভাষ্যমতে তিনি অনেক কিছুই জানেন না এবং অনেক বিষয়ে ওনার পরামর্শ নেয়া হচ্ছে না। এই যে সংকট উত্তরণে সরকারি কাজে সমন্বয়হীনতা! এর সমাধান কোথায়? এভাবে আর কত?

এই কঠিন দুর্যোগে চাল চুরি এবং ত্রাণ চুরিই প্রমান করে যে, এদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় নৈতিক শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এতটুকু মূল্যবোধের জন্য মহা জ্ঞাণী হতে হয় না। শুধু মানুষ হতে হয়। মানুষের মত মানুষ। একটা কথা আমি প্রায়শই বলে থাকি যে, গরুর পেট থেকে বের হলেই সেটা গরু হয়। ছাগলের পেট থেকে বের হলেই সেটা ছাগল হয়। বিড়ালের পেট থেকে বের হলেই সেটা বিড়াল হয় কিন্তু মানুষের পেট থেকে বের হলেই সেটা মানুষ হয় না। বরং সেটাকে মানুষ বানাতে হয়। তাই, মানুষের মত মানুষ হতে হলে নৈতিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। এ সমাজে মিথ্যা, অন্যায়, অবিচার ও পাশবিকতার বিপরীতে সত্য, ন্যায়নিষ্ঠা, সুবিচার ও মানবিকতার চিহ্ন যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা নৈতিক তথা ধর্মীয় শিক্ষার কারণেই অবশিষ্ট আছে। তাই, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আপনার সন্তানদেরকে গড়ে তুলুন। দেখবেন তখন ওরা দেশের ও জনগনের সম্পদের এক অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবে।

এই মহা দুর্যোগকালে প্রশাসন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, মিডিয়াকর্মী, এবং খাদ্য বা ত্রান বিতরণকারী ভলান্টিয়ারস্ ভাইবোনেরা যারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার কল্যানে আউটডোর এক্টিভিটিতে ব্যস্ত, আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কোটি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা আছে আপনাদের সাথে। দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে করোনার বিস্তৃতি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাটে যেভাবে অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে যে, ইতোমধ্যে এটা ব্যাপক কমিউনিটি স্প্রেড হয়ে গিয়েছে। আর আমাদের নীতিনির্ধারনী মহলের সমন্বয়হীনতা এভাবে চলতে থাকলে কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে যাবে। তাই, চলতি পুরো মাসটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন নিজ নিজ দায়িত্বে সাবধান থাকতে হবে সবাইকে। ঘরের বাইরে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অবশ্যই না। বিশেষ করে, আমার প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, এখন ক্রিকেট খেলা, ফুটবল খেলা এবং বিকেল বেলা বাইরে ঘুরাঘুরির সময় না। সকল আবেগ, অবহেলা এবং খামখেয়ালিপনা উপেক্ষা করে নিজেকে বাসায় বন্দী রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকুন তোমাদেরকে করতে হবে। তোমরা পারবে। আর, পারতে তোমাদেরকে হবেই।

সূত্রঃ বিডি২৪লাইভ

J A Suhag

Local News: J A Suhag writes Local News articles for industries that want to see their Google search rankings surge. His articles have appeared in a number of sites. His articles focus on enlightening with informative Services sector needs. he holds the degree of Masters in Business and Marketing. Before he started writing, he experimented with various professions: computer programming, assistant marker, Digital marketing, and others. But his favorite job is writing that he is now doing full-time. Address: 44/8 - North Dhanmondi, Dhaka Email: [email protected]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button