দেশের খবর

রেমডেসিভির নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বিশেষজ্ঞরা, সতর্কতার আহ্বান !!

রেমডেসিভিরকে করোনাভা’ইরাসের বিরুদ্ধে একমাত্র ওষুধ হিসেবে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে বিষয়টা সে রকম নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।গবেষণার বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেখা গেছে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে এ ওষধ ব্যবহার করা হয়েছে তারা ১১ দিনে সুস্থ হয়েছে এবং যাদের ক্ষেত্রে এ ওষধ ব্যবহার করা হয়নি তারা ১৫ দিনে সুস্থ হয়েছে। পার্থক্যটা শুধু এখানেই।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক রাজদৌলা রাফি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোভিড১৯ রোগীর মৃত্যু ঠেকাতে এই ওষধ কার্যকরী নয়। যারা সুস্থ হবে তাদের শুধু চারদিন হাসপাতালে কম থাকতে হবে। চীনের সেই গবেষণা ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এ ওষধ কার্যকরী না।

তিনি জানান, যাদের রেমডিসিভির দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশ তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়েছে। দেখা গেছে, যাদের ১৫ দিনে সুস্থ হবার কথা তারা ১১ দিনে সুস্থ হয়েছে। অন্যদিকে যাদের ক্ষেত্রে রেসডেসিভির দেয়া হয়নি তারা স্বাভাবিকভাবে ১৫ দিনে সুস্থ হয়েছে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হারে তেমন একটা তারতম্য দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। যারা খুব বেশি সিভিয়ার কন্ডিশনে যাবে তাদের ক্ষেত্রে এটা কোন কাজ করবে না।

শিক্ষক রাজদৌলা রাফি বলেন, আমেরিকার ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন রেমডেসিভিরকে এমারজেন্সি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এ ওষধের উপর মানুষ পুরোপুরি নির্ভর করে বেশি আশাবাদী হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আমরা যদি মানুষকে ফলস হোপ (মিথ্যা আশা) দেই, মানুষকে যদি বলি যে করোনার বিপক্ষে রেমডিসিভির একমাত্র ওষধ, তাহলে মানুষ আসলে ভুল পথে ধাবিত হবে। এসময় রেমডেসিভির সম্পর্কে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টা ততটা কার্যকরী না বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব কোম্পানি রেমডেসিভির ঔষধ তৈরি করছে তাদের কেউ-কেউ এর পক্ষে জোরালো প্রচারণা করে এমন একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করছে যে রেমডেসিভির ব্যবহার করলেই রোগী সুস্থ হয়ে যাবে।ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর বলেন, একটি ঔষধ কতটা কার্যকরী সেটা বোঝার জন্য যেসব বৈজ্ঞানিক ধাপ পার করতে হয়, রেমডেসিভির-এর ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

এ ধাপগুলো হচ্ছে:

১. প্রথমত ঔষধটাকে চিহ্নিত করা

২. ঔষধটা কার্যকর কি না সেটা দেখা। এজন্য প্রাণীর উপর গবেষণা করা হয়।

৩. বাজারে অন্যান্য ঔষধগুলোর সাথে কার্যকারিতা তুলনা করা

৪. ঔষধটির কোন খারাপ প্রতিক্রিয়া আছে কি না সেটি দেখা।

তিনি আরও বলেন, উপরিউক্ত কাজগুলো করতে অন্তত ১৬ মাস সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে এমন একটা জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, এই ঔষধটাকে (রেমডেসিভির) দ্বিতীয় বা তৃতীয় ধাপ পরীক্ষার পরেই আপাতত একটা অন্তর্বর্তীকালীন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা ব্যবহার করলেই যে কোভিড ১৯ সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে, এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আমার অন্তত জানা নেই বলে জানান তিনি।

দেশে যেসব কোম্পানি রেমডেসিভির প্রস্তুত করছে তাদের দাবি, করোনাভা’ইরাসের বিপক্ষে এই ঔষধ এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং এটিই একমাত্র ঔষধ হিসেবে এফডিএ কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে।ঔষধ কোম্পানিগুলো বলছে, এই ঔষধ ভা’ইরাসের বিপক্ষে লড়াই করে এবং ভা’ইরাস ধ্বংস করে। তবে কোন ঔষধই শতভাগ কার্যকর নয়। করোনাভা’ইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির যদি অন্য জটিল রোগ রোগ থাকে রোগী হয়তো এ ঔষধে নাও সেরে উঠতে পারে।

সূত্র- দ্যা বাংলাদেশ টুডে

J A Suhag

Local News: J A Suhag writes Local News articles for industries that want to see their Google search rankings surge. His articles have appeared in a number of sites. His articles focus on enlightening with informative Services sector needs. he holds the degree of Masters in Business and Marketing. Before he started writing, he experimented with various professions: computer programming, assistant marker, Digital marketing, and others. But his favorite job is writing that he is now doing full-time. Address: 44/8 - North Dhanmondi, Dhaka Email: [email protected]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button